কান্না থামছে না ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থীদের
গতকাল ১৪ মে ২০২১, শুক্রবার পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিনে দুপুরবেলা বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোঃ আকতারুল ইসলাম স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৪০ বছর। তিনি পরিবারে স্ত্রী এবং দুই শিশুসন্তান রেখে গেছেন। তার গ্রামের বাড়ি ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলায়। তিনি ২০১৩ সালে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন।
গত কয়েক বছরে তিনি তার অভিভাবকসূলভ এবং সেইসঙ্গে বন্ধুসুলভ অনন্য ব্যক্তিত্বের দ্বারা ডিপার্টমেন্টের শিক্ষার্থীদের মনের মণিকোঠায় এক অনন্য স্থান করে নিয়েছিলেন। তিনি বিভাগের অন্যান্য শিক্ষকদের তুলনায় খুব বেশি বন্ধুসুলভ হয়ে নিজে থেকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মিশতেন এবং শিক্ষার্থীদের ভুলত্রুটিমূলক কথাবার্তাতে মাইন্ড না করে বরং আন্তরিকতার সাথে সেসব শুধরে দিতেন বলে তিনিই ছিলেন বিভাগের শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের আবদার, আশা-আকাঙ্খা ও চাওয়া-পাওয়া উপস্থাপনের কেন্দ্র। শিক্ষার্থীরা তার মাধ্যমে অন্যান্য শিক্ষকদের সাথে যোগাযোগ করতেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে তার মৃত্যুসংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর শোকের ছায়া নেমে আসে ডিপার্টমেন্টের সকল শিক্ষার্থীদের মাঝে। এই অবরুদ্ধ সময়ে সবাই নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে অবস্থান করায় ডিপার্টমেন্টে এসে গলা ধরাধরি করে হাউমাউ করে কান্নাকাটি করে নিজেদের বুকের কষ্টকে হালকা করার সুযোগটাও তারা পাচ্ছেন না।
ফলে একাই একাই নিজ বাড়িতে ক্ষণে ক্ষণে কেঁদে উঠছেন ডিপার্টমেন্টের এসব প্রাক্তন এবং বর্তমান সকল শিক্ষার্থীরা এবং সেই সঙ্গে স্যারের সহকর্মী এবং অফিস স্টাফরাও।
শুধু এটুকু বললে ভুল হবে; আকতারুল ইসলাম স্যার বিশ্ববিদ্যালয়ে শুধু নিজ ডিপার্টমেন্টে সীমাবদ্ধ ছিলেন না। ফলে তার মৃত্যুতে গোটা বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর এই কোনো শিক্ষকের মৃত্যু তাও আবার আকালে মৃত্যু!
এখন ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সমস্যাক্লিষ্ট শিক্ষার্থীরা কার কাছে গিয়ে সমস্যা সমাধানের ভরসাপূর্ণ আশ্বাস নিয়ে উত্তপ্ত হৃদয় শীতল করে ফিরবে? আর উনার শিশুসন্তানগুলোর পিতৃহীন ভবিষ্যতই বা কেমন হবে? — এই অমিমাংশিত প্রশ্নগুলোর উত্তর কী হবে?
রিপোর্টার হিসেবে ব্যক্তিগত কোনো কথা বলার সুযোগ থাকে না। তবুও আমি সেই বিধান ভঙ্গ করে বলছি, আমি স্যারের সম্মানে ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের একটি অনলাইন আর্কাইভস তৈরি করে দিবো যেটাতে ডিপার্টমেন্ট প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা কে কোথায় আছে অর্থাৎ কে কোন বড় পদে আছে এবং কে কোন বড় সম্মান/ পুরস্কার অর্জন করেছে তার সবকিছু প্রোফাইলসহ সেই অনলাইন আর্কাইভসে থাকবে।
কিছুদিন আগে আমি ভেবেছিলাম অনার্স ও মাস্টার্স এর সকল নোটের শিট একত্র করে সেমিস্টার ও কোর্স আকারে সাজিয়ে একটি পিডিএফ কপির অনলাইন নোট-ডেস্ক তৈরি করবো যাতে করে যারা পড়াশুনার পাশাপাশি চাকরি করে তারা যেনো নোট জোগাড় করার কষ্ট থেকে মুক্তি পায় এবং সহজেই ওয়েবসাইট ভিজিট করে পড়াশুনা করতে পারে। কিন্তু আমার অনার্স লাইফের সকল গুরুত্বপূর্ণ নোট ডিপার্টমেন্টের ছোটভাই ফুয়াদ এর কাছে থাকায় ও করোনাকালে ২০২০ সালে রংপুরে ভয়াবহ বন্যায় সেসব নোট ভিজে নষ্ট হওয়ায় কাজটা সম্পন্ন করতে পারিনি। কেউ আমাকে সাহায্য করলে স্যারের সম্মানে সেই কাজটাও করে দিবো ইনশাআল্লাহ।
© মেহেদী হাসান, ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর।


Comments
Post a Comment